12.3 C
London
Friday, October 7, 2022

লিঙ্কডইন কি? কিভাবে লিঙ্কডইন সঠিকভাবে ব্যবহার করবেন

অনেক বড় বড় সংস্থা রয়েছে যা তাদের প্রচারের জন্য সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করে, আপনি ইন্টারনেটে অনেকগুলি সোশ্যাল মিডিয়া সাইট বা এ্যাপস পেয়ে যাবেন, তার মধ্যে একটি লিঙ্কডইন।

লিংকডইনে একটি পোফাইল তৈরি করা খুব সহজ, আপনি লিংকডইনে একটি বিনামূল্যে এবং পেইড (অর্থ প্রদান করে) প্রোফাইল তৈরি করতে পারেন। আপনি কাজের সন্ধান করতে লিংকডইন ব্যবহার করতে পারেন, বেশিরভাগ পেশাদার লোক লিংকডইন ব্যবহার করেন।

আপনি চাকরি অথবা ব্যবসা করছেন কিংবা করার যদি সম্ভাবনা/পরিকল্পনা যদি থেকে থাকে, তাহলে অবশ্যই আপনার LinkedIn প্রোফাইল থাকা উচিত। আপনি যদি স্টুডেন্ট হয়ে থাকেন, তাহলে আপনার LinkedIn প্রোফাইল থাকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

আপনার LinkedIn প্রোফাইল মূলত আপনার কর্মজীবনকে রিপ্রেজেন্ট করে। এখানে সিভি এর মত আপনার ক্যারিয়ার অবজেক্টিভ, এডুকেশনাল বেকগ্রাউন্ড, ফিল্ড অব ইন্টারেস্ট, এক্সপেরিয়েন্স সবই দেয়া যায়। পরবর্তীতে, LinkedIn এইসব ডাটা এনালাইসিস করে আপনার ডাটার সাথে সম্পর্কিত বা অনুরূপ বিভিন্ন প্রোফাইল আপনাকে এড করার জন্য সাজেস্ট করবে। একই ভাবে আপনার প্রোফাইলও অন্যদের সাজেশন লিস্টে দেখা যাবে। ফলস্রূতিতে, আপনি যদি একজন মার্চেন্টডাইজার হন, আপনি অন্য মার্চেন্টডাইজারদের সাথে কানেন্ট হতে পারবেন + রিলেশান বিল্ডআপ করতে পারবেন। এছাড়া এখন বেশিরভাগ International কোম্পানি LinkedIn থেকে রিক্রূট করে। যখন তারা কোনো জব সার্কুলার পোষ্ট করবে, তা আপনার ওয়াল থেকে আপনি জানতে পারবেন। এছাড়াও, যেহেতু এটা প্রফেশনালদের একটা প্লাটফর্ম, এখানে আপনি প্রচুর প্রফেশনাল সাজেসান পাবেন যা আপনার ক্যারিয়ারককে সমৃদ্ধ করতে সাহায্য করবে। আপনি বিভিন্ন গ্রুপে জয়েন করতে পারবেন যারা আপনাকে বিভিন্ন নিউজ+ইনফরমেশন পেতে সাহায্য করবে। আপনি বিভিন্ন বহুজাতিক কোম্পানিকে ফলো করতে পারবেন যারা তাদের বিভিন্ন জব সার্কুলার কেবল এখানেই দিয়ে থাকে।

এখন আপনি যদি স্টুডেন্টও হন, যার এখনই চাকরির প্রয়োজন নেই, তা সত্বেও আপনার LinkedIn প্রোফাইল এখনই বানানো প্রয়োজন। কেননা, যখন আপনার প্রোফাইল আপনি আগে থেকেই তৈরী করে রাখবেন + আপনার সেক্টরের বিভিন্ন মানুষ কিংবা প্রতিষ্ঠানের সাথে কানেক্ট থাকবেন, তখন জব মার্কেটে যুদ্ধ শুরু করার আগেই আপনি এর সম্পর্কে একটা ধারনা + বিভিন্ন নিউজ পেয়ে যাবেন। এখানে আপনি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বড় পদের মানুষের সাথে খুব সহজেই কানেক্ট হতে পারবেন যাদের ফেসবুক ফ্রেন্ডলিস্টে আপনি কখনোই এড হতে পারবেন না।

লিঙ্কডইন কি:

লিঙ্কডইন ১৪ ডিসেম্বর, ২০০২ সালে রেইড হফম্যান, এ্যালেন ব্লু, কন্সটেনটাইন, এরিক লে এবং জিয়ান লাক ভিলেন্ট যৌথভাবে প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। এর আনুষ্ঠানিক যাত্রা ৫ মে, ২০০৩-এ শুরু হয়েছিল। এর সদর দপ্তর মাউনটেনভিও, ক্যালিফোর্নিয়া, যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থিত।

এই সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং সাইটের ব্যবহার প্রতিদিন বাড়ছে। লিংকডইন বিশ্বের অন্যতম বড় পেশাদার নেটওয়ার্ক। আমরা সকলেই জানি যে ফেসবুক, টুইটারের মতো খুব বড় সামাজিক সাইটগুলো ইতিমধ্যে ইন্টারনেটে উপস্থিত রয়েছে তবে আমরা কেন লিঙ্কডইন ব্যবহার করবো, কারণ এখানে আপনি একটি কাজের জন্য অনুসন্ধান করতে পারবেন।

এতে আপনার Resume আপলোড হয়ে গেলে আপনি সংস্থার প্রয়োজন অনুসারে কোনো সংস্থায় চাকরীর জন্য আবেদন করতে পারবেন। লিংকডইন-এর ৫০ লক্ষেরও বেশি সদস্য রয়েছে এবং ২০০ টিরও বেশি দেশে রয়েছে এবং প্রতি ৫০০ কোম্পানির এক্সিকিউটিভ এতে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

লিঙ্কডইন কি? কিভাবে লিঙ্কডইন সঠিকভাবে ব্যবহার করবেন

যেভাবে লিঙ্কডইন প্রোফাইল তৈরি করবেন:

১।  প্রথমে আপনাকে linkedin.com এ যেতে হবে।

  • তারপর Sign Up পৃষ্ঠাটি আপনার সামনে খুলবে।
  • এখন আপনাকে একটি একাউন্ট তৈরি করতে একটি ই-মেইল আইডি অথবা ফোন নাম্বার এবং একটি পাসওয়ার্ড প্রবেশ করতে হবে।
  • তারপর Agree & Join এ ক্লিক করুন।

আপনি সরাসরি ফেসবুক থেকে একটি একাউন্ট তৈরি করতে পারেন, তার জন্য আপনাকে Continue with Facebook এ ক্লিক করতে হবে।

২। একাউন্টটি তৈরি হওয়ার পরে আপনাকে নিজের নাম (First Name, Last Name) লিখতে হবে এবং Continue ক্লিক করুন।

৩। এখন আপনার ঠিকানা নির্বাচন করুন, যার অর্থ আপনি কোথায় থেকে এসেছেন।

৪। আপনি যদি আপনার সাম্প্রতিক সংস্থায় কাজ করেছেন তবে ডেল এছাড়াও Continue ক্লিক করুন।

৫। এখন ই-মেইল আইডি যাচাই করুন, কিছু লোককে সাবস্ক্রাইব করুন, আপনার একাউন্টটি সম্পূর্ণ হবে।

ব্যস আপনার লিঙ্কডইন পোফাইল তৈরি হয়ে গেলো।

যেভাবে Linkedin সঠিকভাবে ব্যবহার করবেন:

১। মানুষ সবার আগে যে জিনিসটি লক্ষ্য করবে তা হচ্ছে আপনার নাম। একটি ভুল অনেকের প্রোফাইলেই দেখা যায় – নাম ঠিকমতো না লেখা। যেমন: কারো নাম যদি লেখা হয় ‘ANOWAR HOSSAIN’ – এভাবে পড়তে কিন্তু আরাম হচ্ছে না।

“Mohammad Hossain” আদ্যক্ষর বড় হরফে এবং বাকি অক্ষরগুলো ছোট হরফে – এভাবে পড়তে সহজ হয়। সূক্ষ্ম এই বিষয়টি অনেকে এড়িয়ে যান, কিন্তু এটি ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এর মাধ্যমেই আপনার যোগাযোগ দক্ষতা, অর্গানাইজেশন, পেশাদারিতা – ইত্যাদি সম্পর্কে একটা ধারণা গড়ে উঠবে।

২। ছাত্রজীবনে Linkedin প্রোফাইল খোলা অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু অনেকেই তাদের প্রোফাইলে ক্লিয়ার করে লিখেন না তিনি কোন বিষয়ের ছাত্র/ছাত্রী বা তার দক্ষতা কিসে।

পরিচয়ে কেবল ‘Student’ না লিখে কোন প্রতিষ্ঠানে, কোন বিষয়ের উপর পড়ছেন, কোন বর্ষে আছেন সেগুলো উল্লেখ করুন এবং নিয়মিত আপডেট করুন।

৩। ছাত্র/ছাত্রীদের আরেকটি বিষয় লক্ষ্য রাখতে হবে – শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নাম ঠিকভাবে লেখা আবশ্যক। যেমন – কেউ যদি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ে তাহলে প্রোফাইলে ‘Dhaka University’ না লিখে বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিশিয়াল নাম ‘University of Dhaka’ লিখতে হবে।

কারণ লিংকডইন একটি আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্ম, এখানে আন্তর্জাতিক স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করা বাঞ্ছনীয়।

৪। ছাত্রজীবনে কাজের অভিজ্ঞতা থাকে না অনেকেরই। এজন্য অনেকেই অভিজ্ঞতার জায়গায় শিক্ষাগত যোগ্যতার বিবরণ দিয়ে থাকেন। এগুলো মূলত ‘Education’ সেকশনে লেখা উচিত।

অভিজ্ঞতার জায়গাটি একদম খালি না রেখে আপনি কি কি কাজ করেছেন সেগুলো উল্লেখ করুন। অনেকেই কোচিং সেন্টারে পড়ান, ছোটখাটো ইন্টার্নশিপ করেন। এছাড়া অনলাইনে লেখালেখি, ভিডিও বানানো, ছবি তোলা ইত্যাদি নানারকম কাজের ক্ষেত্র তৈরি হয়েছে – আপনি এমন কিছুর সাথে সংশ্লিষ্ট থাকলে অভিজ্ঞতার জায়গায় সেগুলো তুলে ধরুন।

৫। এবারে আসা যাক কর্মজীবীদের প্রসঙ্গে। মনে করুন আপনি এ পর্যন্ত তিনটি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেছেন, কিন্তু লিংকডইন ফোকাস করবে কেবল একটি প্রতিষ্ঠানকে – সর্বশেষ যে প্রতিষ্ঠানে আপনি চাকরি করছেন বা করেছেন।

সুতরাং এই প্রতিষ্ঠানে আপনার কাজ ও অর্জনগুলোকে ধাপে ধাপে সাজিয়ে স্পষ্ট করে উল্লেখ করুন, গুছিয়ে উপস্থাপন করার জন্য প্রেজেন্টেশন, ভিডিও, ছবি ইত্যাদি যুক্ত করতে পারেন, এতে দর্শক আপনার প্রতি আরো আকৃষ্ট হবে।

৬। লিংকডইন মানেই যে কেবল পেশাদারি কাজের কথা লিখতে হবে এমন না। মানুষের সাথে ব্যবসায়িক সম্পর্ক গড়ে তোলার সবচেয়ে ভালো উপায় ব্যক্তিগত পর্যায়ে যোগাযোগ গড়ে তোলা।

তাই প্রোফাইলে আপনার বিভিন্ন গঠনমূলক শখের কথা লিখতে কার্পণ্য করবেন না। যারা আপনার প্রোফাইল পড়ছে তাদের অনেকের সাথেই আপনার শখ মিলে যেতে পারে, সেখান থেকে আপনার সাথে পরিচয়ের আগ্রহও তৈরি হতে পারে।

৭। যোগাযোগের জন্য একটি মাত্র ই-মেইল ব্যবহার করুন। অনেকেরই কয়েকটি ফোন নাম্বার/ই-মেইল একাউন্ট থাকে। কিন্তু একটি একাউন্ট থাকবে যেখানে আপনাকে সবসময় পাওয়া যাবে।

সেই ই-মেইলটি প্রতিনিয়ত চেক করার অভ্যাস গড়ে তুলুন। দ্রুত রিপ্লাই পেলে প্রাপকের মনে আপনার পেশাদারিতা এবং দক্ষতা সম্পর্কে ইতিবাচক ধারণা তৈরি হবে। অনেকে শুধু অফিসে মেইল চেক করেন, বাসায় আসলে বা ছুটির দিনে মেইল চেক করেন না/ রিপ্লাই দেন না। এগুলো অপেশাদারিতার লক্ষণ।

৮। ‘Linkedin Answer’ খুব গুরুত্বপূর্ণ একটি স্থান যেখানে বিশেষজ্ঞরা বিভিন্ন সমস্যার সমাধান দিয়ে থাকেন। আপনি সেখানে লগইন করে যে প্রশ্নগুলোর উত্তর জানেন সেগুলো প্রদান করুন।

চাইলে প্রশ্নসহ উত্তরটি আপনার ব্লগে প্রকাশ করে তারপর লিংকডইনে দিয়ে সোর্স হিসেবে আপনার ব্লগ ঠিকানা দিয়ে দিতে পারেন। এতে কোয়ালিটি ভিজিটর পাবেন, যা আপনার ব্যবসার প্রসারে সহায়ক হবে।

৯। প্রসার বৃদ্ধি করতে বিভিন্ন গ্রুপে জয়েন করার বিকল্প নেই। কিন্তু এক্ষেত্রে একটি সমস্যা হচ্ছে বেশিরভাগ গ্রুপই কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য পূরণে সহায়ক হয় না। লিংকডইনে প্রতি সেকেন্ডে গ্রুপ তৈরি হয়।

তাই সঠিক গ্রুপ নির্ধারণ করা সময় সাপেক্ষ ব্যাপার হলেও এটি আপনার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যাচাই-বাছাই করে আপনার পেশা, দক্ষতা, আগ্রহের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ গ্রুপগুলোয় যোগ দিন। গ্রুপে সদস্য যতো বেশি হয় ততো ভালো। ভালো গ্রুপে একটি পোস্টই আপনাকে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছে দিতে পারে।

১০। অনেকেই লিংকডইন ব্যবহার করে থাকে কেবল চাকরি খোঁজার উদ্দেশ্যে। অথচ প্রয়োজনীয় দক্ষতা ও যোগ্যতা না থাকলে এভাবে চাকরি পাওয়া দুঃসাধ্য একটি ব্যাপার।

লিংকডইনকে শুধু চাকরি খোঁজার মাধ্যম হিসেবে না দেখে মানুষের সাথে নেটওয়ার্ক গড়ে তোলায় মনোযোগী হন, এর সুদূরপ্রসারী উপকার পাবেন।

১১। নিয়মিত বিভিন্ন কনটেন্ট শেয়ার করুন। আপনার কোম্পানির ব্লগ পোস্ট লিংকডইন ফিড এর মাধ্যমে শেয়ার করুন। এছাড়াও বিভিন্ন গ্রুপে আপনার কোম্পানির ব্লগ পোস্ট ও অন্যান্য ওয়েবসাইটের প্রয়োজনীয় লিংক সাবমিট করুন।

এতে করে আপনার নেটওয়ার্ক যেমন বড় হবে, তেমনি মানুষ আপনার সম্পর্কে আগ্রহী হয়ে উঠবে।

১২। কানেকশন তৈরি অনেক বড় একটি দক্ষতা। ফেসবুকে অনেকেই আছেন একদম কাছের মানুষ ছাড়া কাউকে ফ্রেন্ডলিস্টে রাখেন না। কর্পোরেট জগতে এটি বোকামি হিসেবে গণ্য করা হয়।

কানেকশন যতো বড়, আপনার ব্যবসার প্রসারও ততোই বাড়বে। বিভিন্ন মিটিং, সেমিনার, ওয়ার্কশপে মানুষের সাথে কথা বলুন, পরিচিত হন, লিংকডইনে কানেক্টেড থাকুন।

১৩। ফেসবুকে যেমন পেইজ বা গ্রুপ তৈরি করি, লিংকডইনেও এরকম ব্যক্তিগত কানেকশন নিয়ে গ্রুপ তৈরি করা যায়। আপনি আপনার পরিচিতজনদের নিয়ে প্রোফেশনাল টিম গঠন করে নিতে পারেন। এটা আপনার কর্মক্ষেত্রে শক্তি বৃদ্ধি করবে।

১৪। “Elevator Pitch” এর নাম অনেকেই শুনে থাকবেন। মনে করুন এলেভেটরে আপনার বসের সাথে দেখা, মাত্র ৩০ সেকেন্ডের একটি সুবর্ণ সুযোগ নিজেকে উপস্থাপন করার! এটি বেশ কঠিন ব্যাপার, কিন্তু সুযোগটিকে কাজে লাগাতে জানতে হবে।

কারণ নিয়োগকর্তারা আপনার পিছনে দীর্ঘ সময় খরচ করবে না। লিংকডইনের ‘Summary’ ও অনেকটা এলেভেটর পিচের মতোই। খুব সংক্ষেপে ২-১ লাইনের মধ্যে নিজেকে তুলে ধরুন।

ক্যারিয়ারে আপনার লক্ষ্য, কোথায় পৌঁছতে এবং কেন আপনি এর যোগ্য – নিয়োগকর্তাদের মনে সাধারণত যে প্রশ্নগুলো থাকে খুব অল্পকথায় সেগুলোর উত্তর দিয়েই একটি সংক্ষিপ্ত, আকর্ষণীয় Summary লিখে ফেলতে পারেন আপনি।

১৫। লিংকডইনের ছবিটি কেমন হবে? ছবির গুরুত্ব সম্পর্কে অনেকেই ওয়াকিবহাল নন, অথচ ছবি দেখেই আপনার সম্পর্কে মানুষের মনে প্রাথমিক ধারণা জন্মাবে। যেহেতু আপনার লিংকডইন প্রোফাইলটি ব্যবসায়িক প্রয়োজনে – তাই ছবি হওয়া চাই প্রফেশনাল।

কভার ফটোতে এমন ছবি রাখার চেষ্টা করুন যেটি দেখে মানুষ আপনার কাজ সম্পর্কে একটি ধারণা পাবে। যেমন আপনি কোথাও বক্তব্য রাখবার সময় ছবি থাকলে – সেটি দর্শকের মনে ইতিবাচক ছাপ ফেলবে আপনার আত্মবিশ্বাস, নেতৃত্বগুণ এবং যোগ্যতা সম্পর্কে।

১৬। লিংকডইন আপনার সঙ্গে যুক্ত পেশাদারদের কাছ থেকে বিভিন্ন পেশাগত যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতার সুপারিশ পাবেন। নিয়োগকর্তারা অনেক ক্ষেত্রেই ইন্টারভিউর আগে চোখ বুলিয়ে নেন প্রার্থীর লিংকডইন প্রোফাইলে। এক্ষেত্রে পেশাদারদের সুপারিশ আপনাকে এগিয়ে রাখবে চাকরি পাওয়ার দৌড়ে।

১৭। আপনার দক্ষতা গুলোর বিবরণ দেওয়ার সময় বিভিন্ন ‘Key words’ ব্যবহার করুন। চিন্তা করুন আপনার নিয়োগকর্তা কী কী দক্ষতা প্রত্যাশা করবেন আপনার কাছে, সেগুলো কি-ওয়ার্ড হিসেবে ব্যবহার করুন।

১৮। ‘Company Buzz’ নামে লিংকডইনের একটি এ্যাপ আছে, সেটি ব্যবহার করে আপনি জানতে পারবেন টুইটার, লিংকডইন ইত্যাদি সোশাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে আপনার কোম্পানি বা আপনার সম্পর্কে মানুষের মতামত, ধারণা ইত্যাদি। নিয়মিত এ বিষয়গুলো সম্পর্কে খবর নেওয়ার, মার্কেট সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা গড়ে তোলার অভ্যাস থাকতে হবে।

১৯। সোশাল মিডিয়ায় আপনি ফেসবুক, টুইটার, ইনস্টাগ্রাম, স্ন্যাপচ্যাট যেখানেই থাকুন না কেন লিংকডইন প্রোফাইল লিঙ্কটি দিতে ভুলবেন না। এর মাধ্যমে নতুন নতুন মাধ্যম থেকে নেটওয়ার্ক তৈরি হবে।

২০। সবশেষে নজর দিন আপনার প্রোফাইল কতটা নান্দনিক তার উপর। প্রোফাইলটি পড়তে এবং দেখতে ভালো লাগছে কি? বানান, ব্যাকরণ ইত্যাদি যাচাই করে দেখুন, দীর্ঘ এবং কঠিন বাক্য এড়িয়ে চলুন। তা নাহলে অনেকে বিরক্ত হয়ে পুরোটা না পড়েই আপনার প্রোফাইল থেকে বেরিয়ে যেতে পারে।

লিংকডিনে যেসব বিষয় থেকে বিরত থাকবেন:

  • কখনোই কোনো মানুষকে ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে প্রশ্ন করা থেকে বিরত থাকুন।
  • অহেতুক কাউকে ম্যাসেজ দিয়ে জ্বালাতন করা থেকে বিরত থাকুন।
  • অহেতুক কারো সাথে দ্বন্দে লিপ্ত হবেন না। সেই সাথে কারো পোস্টে অহেতুম কমেন্ট করবেন না।
  • লিংকডিনের কখনোই ব্যক্তিগত ছবি শেয়ার করবেন না।
  • উল্টাপাল্টা পোস্টে লাইক কিংবা কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন।

লিঙ্কডইন কি? কিভাবে লিঙ্কডইন সঠিকভাবে ব্যবহার করবেন

LinkedIn প্রোফাইলের কিছু স্পেশাল ফিচার:

সাধারনত আমরা আমাদের সিভিতে আমাদের অনেক Skills এর কথা উল্লেখ করি। ব্যাপারটা অনেকটা নিজের ঢোল নিজে পেটানোর মতো। কিন্তু একজন চাকরিদাতা আপনার সেই Skills গুলো কখনো ভেরিফাই করতে পারে না। কিন্তু LinkedIn এ আপনি আপনার Skills গুলো এড করার পর আপনার কানেক্টেড মানুষেরা আপনার সেই Skills গুলো Endorse করতে পারে।

যেমন LinkedIn প্রোফাইলে দেয়া আছে

Skills => মার্চেন্টাইজিং + কস্টিং + বিজনেস ডেভেলপমেন্ট ইত্যাদি। এখন এই Skills গুলো যে আপনার আছে, তা যারা জানে, তারা সেগুলো Endorse করে দিবে। এই Endorse এর সংখ্যা যত বেশি হবে, আপনার সেই Skills এর বিশ্বাসযোগ্যতা/গ্রহনযোগ্যতা তত বেশি হবে।

আমরা সিভিতে অনেকের Recommendation ব্যবহার করি যার Authentication থাকে না। কিন্তু LinkedIn প্রোফাইলে আপনি ইতিপূর্বে যে প্রতিষ্ঠানে কাজ করেছেন বা পড়াশোনা করেছেন, তার উচ্চপদস্থ কোনো কর্মকর্তা আপনাকে সরাসরি রিকমেন্ড করতে পারেন যার ফলে এই রিকমেন্ডেশনের অথেনটিকেশন বেড়ে যায়। ব্যপারটা অনেকটা আপনার ফেসবুক ওয়ালে আপনার অফিসের বস আপনার সম্পর্কে ভালো কিছু কথা লিখে যাওয়ার মত যা আপনার ওয়াল ভিজিটরদের নিকট আপনার গ্রহনযোগ্যতা বৃদ্ধি করবে। তবে এক্ষেত্রে আপনার LinkedIn এর মাধ্যমে তাকে আপনাকে রিকমেন্ড করার জন্য রিকোয়েস্ট করতে হবে।

এখন এতো এতো Endorse + Recommendation কি কাজে আসবে যদি চাকরিদাতা আপনার LinkedIn প্রোফাইল না দেখে?

অনেক প্রতিষ্ঠানেই এখন এপ্লিকেন্টের LinkedIn প্রোফাইল চাওয়া হয় + আপনার সিভিতে আপনার LinkedIn প্রোফাইল লিংক থাকা স্মার্টনেসের পরিচায়ক যা অনেক চাকরিদাতাই চেক করে থাকে। এছাড়া সরাসরি LinkedIn প্রোফাইল চাকরিদাতা নিজে খুঁজে বের করেই অনেককে ইন্টারভিউয়ের জন্য সিলেক্ট করে থাকে।

মোদ্দা কথা, আপনার LinkedIn প্রোফাইল আপনার ব্র্যান্ড ডেভেলপমেন্টে সহায়তা করবে। তবে এই জন্য আপনাকে ফেসবুকের মত এখানেও নিয়মিত সময় দিতে হবে। প্রতিনিয়ত পরিচিতদের LinkedIn এ খুঁজে বের করে এড করতে হবে + তাদের স্পেশালিটিগুলো এনডোর্স করতে হবে (যাতে তারাও আপনারটা করে), বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রোফাইল নিয়মিত ভিজিট করে তাদের ব্যপারে জানতে হবে। বিভিন্ন বড় পদে কর্মরত মানুষদের প্রোফাইল ভিজিট করে শিখতে হবে, কিভাবে তারা নিজেদের প্রেজেন্ট করে। তবে যা কিছুই করতে হবে, তা আপনি আপনার প্রোফাইল তৈরি করে কিছুদিন ব্রাউজ করলেই বুঝতে পারবেন। তবে যাই করেন, যত বেশি সম্ভব LinkedIn এ ই বেশি সময় দেয়ার চেষ্টা করুন। একে এমনভাবে সাজানোর চেষ্টা করুন, যাতে এটা আপনার ক্যারিয়ারে ভ্যালু এড করে।

লিঙ্কডইন এর সুবিধাসমূহ:

১। Build a professional network.

২। Get traffics to your website.

৩। Hire/getting a job.

৪। Hire/getting freelance work.

৫। Promote your business.

৬। Grouping facility.

১। Build a professional network:

যেহেতু, লিংকডইন একটি প্রফেশনাল সোস্যাল নেটওয়ারকিং সাইট। সুতরাং, এখানে আপনি একাউন্ট খুলে অন্যান্য প্রফেশনাল লোকদের সাথে এড হতে পারেন। তাদের কাছ থেকে অনেক অনেক টিপস পাবেন। তাছাড়া আপনিও কোনো বিষয়ে দক্ষ হয়ে থাকলে সেগুলোও শেয়ার করতে পারেন।

২। Get traffics to your website:

এখান থেকে আপনার ওয়েবসাইটে প্রচুর পরিমান ভিজিটর নিতে পারেন।

৩। Hire/getting a job:

লিঙ্কডইন থেকে জবের জন্য দক্ষ এমপ্লয়ী পাওয়া যায় এবং আপনার জবের জন্যও আপনি এপ্লাই করতে পারেন। লিঙ্কডইন এর এই চমৎকার উদ্যোগ থেকে আপনি দক্ষ এমপ্লয়ী এবং জবের সুযোগ নিতে পারবেন।

৪। Hire/getting freelance work:

একজন ফ্রীলান্সার হায়ার করা অথবা আপনি ফ্রীলান্সার হিসাবে কাজ করার ক্ষেত্রে আপনি লিঙ্কডইন এর সুযোগ নিতে পারবেন। এখানে আপনি অনেক কাজ দেখতে পাবেন। আপনি চাইলে ফ্রীলান্সার হায়ার করতে পারবেন অথবা নিজেই ফ্রীলান্সার হিসাবে কাজ করতে পারবেন।

৫। Promote your business:

আপনার বিজনেস এর প্রমোশন করতে চাইলে সে ক্ষেত্রে আপনি এখানে কোম্পানি পেজ খুলবেন। এজন্য “work” অপশনে ক্লিক করে একটু নিচে দেখতে পাবেন “create company page”। আপনার বিজনেস প্রমোশনের জন্য এখান থেকে আপনি কোম্পানি পেজ খুলে নিবেন। আপনার প্রোডাক্ট সার্ভিস সম্পর্কে পোষ্ট করে আপনি একটিভ থাকতে পারবেন।

৬। Grouping facility:

এখানে ফেসবুক এর মতো গ্রুপ খুলে মেম্বার এড বা ইনভাইট করতে পারবেন। আমরা এখানে একটা গ্রুপ তৈরি করেছি এবং কিছু পোষ্ট করা হয়েছে। আপনি নিজেও একটা গ্রুপ তৈরি করে প্রচুর পরিমানে ভিজিটর নিয়ে আসতে পারেন।

- Advertisement -
Tipstunes Desk
Tipstunes Deskhttps://tipstunes.info
Tipstune হল দেশের সর্ববৃহৎ অল্টারনেটিভ মিডিয়া প্লাটফর্ম যার মূল উদ্দেশ্য দেশ ও মানব জাতির গুরুত্বপূর্ণ ও আলোচিত বিষয়গুলোকে চমৎকারভাবে তুলে ধরা। এছাড়া এই ওয়েবসাইটের, একমাত্র লক্ষ্য পাঠক বা দর্শকদের নতুন কিছু সম্পর্কে অবহিত করা, তাদের নতুন করে ভাবতে শেখানো এবং সর্বোপরি সমাজের জন্য ইতিবাচক কিছু করা।
Latest Post
- Advertisement -
Related Post
- Advertisement -

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here